গ্রামে সার্ভে করার নাম করে তথ্য চাইলেই তথ্য দেবেন না, এই বার্তা দিল বাঁকী গ্রাম, সার্ভে টিমকে তুলে দিল পুলিশের হাতে।

মধ্যপ্রদেশের লেটার অফ অথরিটি নিয়ে একটি টিমের বাঁকুড়া সদর থানার বাঁকী গ্রামে বিধানসভা ভোটের বেসলাইন সার্ভের নামে গ্রামবাসীদের মোবাইল নাম্বার ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। তাদের পরিচয় পত্রে অসংগতি থাকায় গ্রামবাসীরা পুরো টিমকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

গ্রামে সার্ভে করার নাম করে তথ্য চাইলেই তথ্য দেবেন না, এই বার্তা দিল বাঁকী গ্রাম, সার্ভে টিমকে তুলে দিল পুলিশের হাতে।
X

বাঁকুড়া২৪X৭প্রতিবেদন : মধ্যপ্রদেশের লেটার অফ অথরিটি নিয়ে মহিলা সহ একটি টিম বাঁকুড়া সদর থানার বাঁকী গ্রামে বিধানসভা ভোটের বেসলাইন সার্ভের নামে গ্রামবাসীদের মোবাইল নাম্বার ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো গ্রাম। সার্ভেটিমের পরিচয় পত্রে ও অসংগতি থাকায় গ্রামবাসীরা পুরো টিমকে আটকে রাখেন এবং থানায় খবর দেন। সাভেটিমের সদস্যদের দাবী তারা ইলেকশন নিউজ ডট ইন নামে একটি পোর্টালের হয়ে কাজ করছেন। কিন্তু ওই পোর্টাল গুগলে সার্চ করলে তা না খোলায় তাদের সন্দেহ আরো জোরালো হয়। সার্ভেটমের লীডার বলেন তারা রানীবাঁধ থেকে এসেছেন। লীডার নাকি একটি এনজিও চালান। এরপর আরও সন্দেহ বাড়তে থাকে গ্রামের মানুষের। রাদের সওয়ারী গাড়ীটিও আটকে দেওয়া হয়। চলে জিজ্ঞাসাবাদও। এবং পরে পুরোটিমটিকে পুলিশের হাতে তুলেদেন গ্রামবাসীরা। যদিও সার্ভে টিমের সদস্যদের দাবী তারা গুরগাঁও এর এএসআর নামে একটি কোম্পানির হয়ে ভোটের বেসলাইন সার্ভে করছেন। করোনা পরিস্থিতিতে গ্রামের মানুষের তথ্য বুথে,বুথে সংগ্রহ করছেন। এবং তারা মোবাইল নাম্বার হাতিয়ে এটিএম থেকে টাকা তুলে নেওয়ার চক্রের সাথে যুক্ত সন্দেহেই গ্রামের মানুষ তাদের আটকে রেখেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমের কাছে স্বীকার করেন এবং দাবী করেন, তারা এমন কাজ করেন না।

আমরাও প্রকৃত সত্য জানতে, এই কোম্পানির কর্ণধার উপেন্দ্র পাণ্ডের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনিও স্বীকার করেন যে বাংলায় তার টিম কাজ করলে মধ্যপ্রদেশের লেটার অফ অথরিটি থাকার কথা নয়। তবে তার কোম্পানির কোন ভুলে এমন হয়েছে কিনা তা তিনি খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলেও আমাদের জানান।পাশাপাশি, তার কোম্পানির নামে কেও ভুয়ো সার্ভে করছে কিনা তাও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। ফলে এই টিময়ের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গেল।

এদিকে,আজ বাঁকী গ্রামের বাসিন্দারা যে কাজ করেছেন তা কুর্নিশ যোগ্য। তারা আইন নিজেদের হাতে না তুলে, পুরো সার্ভেটিমটিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। এবং তারা যে নিজেদের তথ্য সুরক্ষিত রাখতে সচেতন সেই পরিচয়ও রেখেছেন। কারন,এখন বিধানসভা ভোটের সার্ভের নামকরে অনেক ভুয়ো কোম্পানি মোবাইল নাম্বার,ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে তা মোটা সাইবার,বা অনলাইন প্রতারণা চক্রের হাতে তুলে দিচ্ছে। বিশেষ করে জামতাড়া গ্যাং বা খয়রাশোল গ্যাংয়ের হাতে চলে যাচ্ছে তথ্য এমন ঘটনাও আকছার ঘটছে। তার পর ওই মোবাইল নাম্বারে ফোন করে পিন হাতিয়ে বা ওটিপি হাতিয়ে টাকা গায়েব করে দিচ্ছে প্রতারণা চক্র। তাই আপনার এলাকায় কেও সার্ভের নাম করে তথ্য জানতে চাইলে ওই সার্ভে সংস্থার প্রকৃত পরিচয় ও সত্যতা যাচাই না করে কোন তথ্য দেবেন না। না হলে প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পড়ে মোটা অঙ্কের টাকা হারাতে পারেন আপনিও! তাই সতর্ক থাকুন,সাবধান থাকুন। প্রয়োজন মনে করলে বাঁকী গ্রামের মতো সার্ভে টিমকে আটকে স্থানীয় থানায় খবর দিন। নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য,মোবাইল নাম্বার,আধার কার্ড নাম্বার সুরক্ষিত রাখুন। এই অনুরোধ রইল আমাদের দর্শকদের কাছে।

দেখুন 🎦 ভিডিও। 👇


Next Story