রাজ্যে প্রথম জেল বন্দিদের উৎপাদিত পন্য বিক্রির স্থায়ী বিপনি 'প্রীতি স্পর্শ' চালু বাঁকুড়া জেলা আদালত চত্বরে।

জেল বন্দিদের উৎপাদিত পন্য বিক্রির জন্য রাজ্যের প্রথম স্থায়ী বিপণির আনুষ্ঠানিক সুচনা হল বাঁকুড়ায়। প্রজাতন্ত্র দিবসে বাঁকুড়া জেলা আদালত চত্বরে এই বিপনির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা জাজ অপূর্ব সিনহারায়। তিনি নিজে এই বিপণির নাম করণও করেন। বিপনির নাম প্রীতি স্পর্শ।

রাজ্যে প্রথম জেল বন্দিদের উৎপাদিত পন্য বিক্রির স্থায়ী বিপনি প্রীতি স্পর্শ চালু বাঁকুড়া জেলা আদালত চত্বরে।
X

বাঁকুড়া২৪X৭প্রতিবেদন : চার দেওয়ালে বন্দি থাকলেও তাদের সৃজনশীলতা থেমে নেই।বাঁকুড়া জেলা সংশোধনাগারের বন্দিরা সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মাতেন যে যার নিজের মতো করে। কেও সুন্দর পোষাক বানাতে ওস্তাদ তো কেও সেলাইয়ের যাদুকর। আবার কোনও মহিলা বন্দির হাতের সূক্ষ্ম সুতোর কাজ পেশাদার কারিগরদেরও হার মানায়। বাঁকুড়া জেলা সংশোধনাগারে যাবজীব্বন সাজা প্রাপ্ত এমন ছয় জন বন্দিদের নিয়ে তৈরি একটি গ্রপ দারুণ, দারুণ জামা,প্যান্ট, উকিলদের পোষাক, সুতির মাস্ক বানাচ্ছেন। আর এক বিচারাধীন মহিলা বন্দি আসন,উলের শাল,নাইটি,কাঁথা স্টিচের কাজ করা টপ তৈরি করছেন পুরো পেশাদারী আঙ্গিকে।


এই কাজের জন্য জেলের মধ্যেই বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক আট খানা মেশিন। এই মেশিনে সেলাই,পিকো করা,এম্বড্রারি সহ যাবতীয় কাজ হচ্ছে। আর এই মেশিন পত্র এবং কাঁচা মালের জন্য বিনিয়োগের অর্থ মিলেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল পিজনার্স ওয়েল ফেয়ার ফান্ড থেকে। এই প্রকল্পে তৈরি সামগ্রী বিক্রি করে যে লাভ হবে, তা জমা পড়বে এই পিজনার্স ওয়েল ফেয়ার ফাণ্ডে। তা থেকে সারা রাজ্যের যাবজীব্বন সাজা প্রাপ্ত বন্দিদের পরিবার বিশেষ প্রয়োজন, যেমন মেয়ের বিয়ে,ছেলে মেয়ের উচ্চ শিক্ষা, কোন বিপর্যয়ে ভেঙে পড়া ঘর বাড়ীর মেরামত বা জটিল চিকিৎসার ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা পাবে।

আজ জেল বন্দিদের উৎপাদিত পন্য বিক্রির জন্য রাজ্যের প্রথম এই স্থায়ী বিপণির আনুষ্ঠানিক সুচনা হল। প্রজাতন্ত্র দিবসে বাঁকুড়া জেলা আদালত চত্বরে এই বিপনির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা জাজ অপূর্ব সিনহারায়। তিনি নিজে এই বিপণির নাম করণও করেন। বিপনির নাম 'প্রীতি স্পর্শ '। আপনার প্রীতির স্পর্শ পেলেই এই বিপণিতে কেনাকাটা জমে উঠবে। তাই চলে আসুন এই অভিনব বিপণিতে। উন্নত মানের জামা,প্যাণ্ট, উকিলদের পোষাক,পুরুষ ও মহিলাদের পোষাকের পসরা সাজানো রয়েছে নজর কাড়া দামে।জামার দাম শুরু মাত্র ১০০ টাকা থেকে। আর প্যান্ট মিলবে মাত্র ৩০০ টাকায়। এছাড়াও একেবারে গার্ডেন ফ্রেশ মরসুমি সবজিও বিক্রি শুরু হবে শীঘ্রই। জেলা সংশোধানাগারের বাগানে বন্দিদের চাষ করা পেঁপে,কুমড়োর মতো সবজি পাবেন বাজার থেকে কম দামে।

এদিন দুশো টাকার একটি সাদা জামা কিনে বিপনিতে বেচা-কেনার আনুষ্ঠানিক সুচনা করেন জেলা জাজ অপূর্ব সিনহারায়। তিনি বাঁকুড়া বাসীদেরও এই বিপণি থেকে কেনাকাটার আহবান জানান।


আমরা তো বাজার বা শপিং মলে কেনাকাটা করেই থাকি। কিন্তু, এই বিপণিতে কেনাকাটার অনুভূতি আপনাকে আলাদা তৃপ্তি দেবে। আপনার প্রীতির স্পর্শে জেল বন্দিদের মুখে হাসি ফুটবে।এখানে কেনাকাটা করলে বাজার থেকে কম দামে যেমন জিনিস কেনার সুযোগ রয়েছে,পাশাপাশি এই জেল বন্দীদের সৃজনকে সম্মান জানানোও হবে জিনিস কেনার মধ্য দিয়ে। আর আপনার কেনাকাটার লভ্যাংশ জেল বন্দিদের পরিবারের বিপদে,আপদে সহায় হবে। সামান্য কেনাকাটার মাধ্যমে এতো বড়ো সামাজিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ কেন হাত ছাড়া করবেন? তাই আসুন নিজে কিনুন,অন্যদেরো কেনা কাটা করতে বলুন। আর এই বিপণির কথা আরও বেশী,বেশী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন সোস্যাল মিডিয়াতে এই অনুরোধ রইল বাঁকুড়া২৪x৭ পরিবারের পক্ষ থেকে।

দেখুন 🎦 ভিডিও। 👇


Next Story