কাদারোডের এক চা বিক্রেতার মাধ্যমেই শিশু পাচার সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন নবোদয় স্কুলের অধ্যক্ষ।

কাদারোডের এক চা বিক্রেতার মাধ্যমেই শিশু পাচার সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন নবোদয় স্কুলের অধ্যক্ষ।
X

বাঁকুড়া২৪X৭প্রতিবেদন : আদতে রাজস্থানের বাসিন্দা। কর্মসুত্রে থাকতেন বাঁকুড়ায়। বাঁকুড়ার কালপাথরে জওহর নবোদয় স্কুলের অধ্যক্ষ পদে চাকুরী সুত্রে এই স্কুল ক্যাম্পাসের কোয়াটারেই থাকতেন কমল কুমার রাজোরিয়া। কিন্তু প্রায় তার যাতায়াত ছিল দুর্গাপুর এবং দুর্গাপুরের কাদারোডের মেনগেট লাগোয়া এলাকায় তিনি কাটাতেন ঘন্টার পর ঘন্টা এইখানেই এক চা বিক্রেতা স্বপন দত্তের সাথে তার ঘনিষ্টতা বাড়ে। এই চা বিক্রেতাই যোগাযোগ করিয়ে দেয় রিয়া বাদ্যকার,রিয়ার মা সুনীতা বাদ্যকর ও দেব বাদ্যকরের সাথে। আর এদের মাধ্যনেই শিশু পাচারের কাজ শুরু করেন কমল কুমার। রিয়া বাদ্যকর নামে বছর ২৩ এর এই মহিলা ৫ টি শিশুর মা বলে নিজেকে দাবী করেন। রিয়া দেবীর স্বামী মারা গেছেন।

কাদারোডে তার মা সুনীতার কাছেই থাকতেন তিনি।রিয়ার একটি নমাসের শিশু পুত্রকে এই প্রিন্সিপাল বিক্রি করেন তার স্কুলেরই নিসন্তান শিক্ষিকা সুষমা শর্মাকে। এছাড়া আরও দুই শিশু কন্যাকে তিনি নিজের কাছে পাচারের জন্য রাখেন। রবিবার রিয়া বাদ্যকর তার আরও দুটি বাচ্চাকে এখানে বিক্রি করতে এলে স্থানীয় মানুষের সন্দেহ হওয়ায় তারা গাড়ী সহ পুরো টীমটিকে আটকে পুলিশে খবর দেন।


পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেমে ৮ জনকে ধরে ফেলে।চা বিক্রেতা স্বপন দত্ত মুলত শিশু জোগাড়ের মধ্যস্থতা করতেন। রিয়া ছাড়া এর আগে আর অন্য কোন মহিলার বাচ্চা এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই প্রথম স্কুলের শিক্ষিকাকে মোটা টাকায় শিশু তুলে দেওয়ার মাধ্যমেই কমল কুমার রাজোরিয়া তার প্রথম শিশু বিক্রির কারবারের হাতেখড়ি, না এর আগে একই ভাবে অনেক শিশু রাজস্থানে পাচার করেছেন তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা।

প্রসঙ্গেত, রাজস্থানে মহিলার চাহিদা যথেষ্ট। এই কারণে রাজস্থানীরা বাঁকুড়ার গ্রামে মোটা টাকা দিয়ে গরীব মেয়েদের বিয়ে করে নিয়ে যায়। এই বিয়েরও কিছু সিন্ডিকেট জেলায় সক্রিয় আছে। এর আগে কয়েকবার পুলিশের জালেও এমন সিন্ডিকেটের পান্ডারা ধরাও পড়েছে৷ তবে প্রিন্সিপাল সরাসরি কন্যা,শিশু রাজস্থানে পাচার করার কারবারও চালাতেন কিনা তার খোঁজ খবর নিচ্ছে পুলিশ।


পাশাপাশি, নিসন্তান দম্পতিদের মনোমত শিশু বেআইনি ভাবে পায়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেও মোটা টাকার কারবার ফেঁদেছিলেন তিনি এমনটাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছেনা। তদন্তে উঠে এসেছে এই স্কুলেরই নিসন্তান শিক্ষিকা সুষমা শর্মাকেই প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকায় সপ্তাহ খানেক আগে একটি ৯ মাসের পুত্র সন্তানের বন্দোবস্ত করেদেন কমল কুমার রাজোরিয়া। এই বাচ্ছাটিকে নিজের সন্তান বলে দাবী করেছে রিয়া বাদ্যকর। রিয়া এই ৫ শিশুর প্রকৃত মা কিনা? তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি, দুর্গাপুরের রেড লাইট এলাকা হিসেবে পরিচিত কাদারোড এখন অবৈধ শিশু বেচা-কেনার আঁতুড় ঘর হয়ে উঠল কিনা সেই প্রশ্নও উঠছে।



Next Story