ই-ওয়ালেট কান্ডে ধৃত আরও তিন,ভুয়ো সিম এক্টিভেট করতে শহর এড়িয়ে গ্রামে,গ্রামে সিন্ডিকেট গড়ে তোলে অভিষেক।

অভিষেক এই কাজে শহরের ছেলেদের লাগায়নি। কারণ,শহর থেকে এই কাজ করলে পুলিশ নজরে পড়ার ঝুঁকি বেশী থাকে,পাশাপাশি গ্রামের ছেলেদের নাম মাত্র টাকা দিয়ে কাজ হাসিল করা যায় সহজে। আর শহরের ছেলেদের দিয়ে কাজ করালে তারাও এই প্রতারণা চক্র গড়া শুরু করে দিতে পারে? এমন আশঙ্কাও ছিল তার।

ই-ওয়ালেট কান্ডে ধৃত আরও তিন,ভুয়ো সিম এক্টিভেট করতে শহর এড়িয়ে গ্রামে,গ্রামে সিন্ডিকেট গড়ে তোলে অভিষেক।
X

বাঁকুড়া২৪X৭প্রতিবেদন : ভুয়ো সিমের মাধ্যমে ই-ওয়ালেট প্রতারণা চক্রের তদন্তে নয়া মোড়। পুলিশের জালে ধরা পড়ল আরও তিন জন। এদের মধ্যে দীপক গুঁইকে জেলার জয়পুর থানার রাউৎখন্ড গ্রাম থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। দীপক সিম কার্ড এক্টিভেট করার জন্য জাল নথি তৈরী করে এই চক্রের মাথা অভিষেকের হাতে তুলে দিত। আর এই জাল নথিদিয়ে তৈরী হত সিমকার্ড। আর এই সিমকার্ড যোগান পেতে গ্রামীণ সিমকার্ড বিপননকারীদের কাজে লাগাত অভিষেক।বাঁকুড়া সদর থানার বেলিয়াড়ি গ্রাম থেকে এমন দুই বিপণনকারী মানস সাহানা ও কৃপাসিন্ধু সাহানাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ধরা পড়া ৯ জনের সবাই কিন্তু গ্রামের বাসিন্দা। এবং এই প্রতারণা চক্রের পান্ডা বছর ২৪ এর অভিষেক মন্ডলও গ্রামের ছেলে।

বাঁকুড়া সদর ধবগ্রামের বাসিন্দা সে।উচ্চমাধ্যমিকের পর স্নাতকস্তরে ভর্তি হলেও দ্বিতীয় বর্ষেই পড়াশোনা ছেড়ে দেয় সে। তার কয়েক বছর পরই ইন্টারনেট ঘেঁটে আর টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে তার সাইবার প্রতারণার হাতেখড়ি হয়েছিল। এবং গত দু বছরে ভুয়ো তথ্য দিয়ে সিম এক্টিভেট করে প্রায় দশ হাজার ই -ওয়ালেট খুলে ফেলে এবং এই ওয়ালেট গুলি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে সাইবার প্রতারকদেরকে ওটিপি শেয়ার করে মোটা টাকায় হস্তান্তর করে৷ এবং এই লেনদেন প্রায় টাকার অংকে ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে। পুলিশ এই অভিষেকের ভাই অভিজিৎ সহ প্রথম দফায় ৬ জনকে এবং দ্বিতীয় দফায় আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরা সবাই কিন্তু গ্রামের বাসিন্দা। অভিষেক তার এই কাজে শহরের ছেলেদের লাগায়নি। কারণ শহর থেকে এই কাজ করলে পুলিশ নজরে পড়ার ঝুঁকি বেশী থাকে।

পাশাপাশি, গ্রামের ছেলেদের নাম মাত্র টাকা দিয়ে কাজ হাসিল করা যায় সহজে। আর শহরের ছেলেদের দিয়ে কাজ করালে তারাও এই প্রতারণা চক্র গড়া শুরু করে দিতে পারে? এমন আশঙ্কাও ছিল অভিষেকের। তাই সে গ্রামের ছেলেদের ব্যবহার করে তার পুরো সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রায়ভ ৯ হাজার সিমকার্ড বাজেয়াপ্ত করেছে। এই বিপুল পরিমাণ সিমের জোগানের জন্য জেলার আর কোথায়,কোথায় তার নেটওয়ার্ক ছিল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ এমনটাই জানিয়েছেন পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকর।

এদিকে, ধৃত দীপক গুই ,মানস সাহানা ও কৃপাসিন্ধু সাহানাকে বাঁকুড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক ৬ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী অভিষেক বিশ্বাস জানান, এই মামলায় ধৃত সকলকে ১৮ তারিখ ফের আদালতে তোলা হবে।

👁️ দেখুন 🎦ভিডিও। 👇



Next Story