কোভিড আবহে চলন্ত বাসে মৃত্যু দিন মজুর যুবকের,আতঙ্কে তার বৃদ্ধ মা,বাবা সহ মৃতদেহ নামিয়ে চম্পট দিল বাস।

কোভিড আবহে চলন্ত বাসে মৃত্যু দিন মজুর যুবকের,আতঙ্কে তার বৃদ্ধ মা,বাবা সহ মৃতদেহ নামিয়ে চম্পট দিল বাস।
X

বাঁকুড়া২৪X৭প্রতিবেদন : কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এই আতঙ্কে চলন্ত বাসে মারা যাওয়া এক দিনমজুর যুবক ও তার বৃদ্ধ মা ও বাবাকে নামিয়ে দিয়ে চম্পট দিল এক যাত্রীবাহী বাস। বাঁকুড়া সদর থানার ধলডাঙ্গা বাস স্টপেজে তাদের নামিয়ে দেওয়া হয়। ছেলের মৃতদেহ আগলে মৃত যুবকের বাবা,মা,কান্নাকাটি করলে, স্থানীয় মানুষ ও অন্যান্য যাত্রীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।খবর দেওয়া হয় পুলিশে।


বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, মৃত যুবকের নাম সুজন সরেন (২৩)। সে তার বৃদ্ধ বাবা ও মাকে নিয়ে কোতুলপুর থেকে রানীবাঁধের কমো গ্রামে রওনা দিয়েছিলেন। আংশিক লকডাউনের পর যদি পুরোপুরি লকডাউন শুরু হয়ে যায়? এই আশঙ্কায় এই দিন মজুর পরিবারটি বাড়ি ফিরছিল।

ফেরার পথে বাসের মধ্যেই সুজনের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়দের দাবী। বাসের মধ্যে অসহ্য পেট ব্যাথায় কাতরাতে থাকে বছর ২৩ এর তরতাজা যুবক সুজন।খানিক পরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। কোভিড পরিস্থিতিতে আচমকা এই মৃত্যুতে বাসের যাত্রীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অবস্থা বেগতিক দেখে বাসের কন্ডাক্টর মৃতদেহ সহ এই পরিবারটিকে ধলডাঙ্গায় নামিয়ে চম্পট দেয়।


যদিও মানবিকতার খাতিরে বাস কর্মীদের বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানান উচিত ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। স্থানীয় মানুষ ঘটনা টের পেয়ে সংবাদ মাধ্যম ও পুলিশে খবর দেন। এর পরই পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে।এদিকে,কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় মৃতদেহে কোভিড ভাইরাস আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। তার পরই পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে প্রশাসন।

আর যদি মৃতদেহে কোভিড ভাইরাসের উপস্থিতি মেলে সেক্ষেত্রে পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে না দিয়ে কোভিড প্রোটোকল মেনে অন্তিম সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি, মৃত যুবকের মা ও বাবার কোন শারিরীক অসুস্থতা আছে কিনা তা দেখার পাশাপাশি তাদের কোভিড পরীক্ষারও ব্যবস্থা করা হতে পারে যদি মৃতদেহে কোভিড ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এমনটাই বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সুত্রে জানা যাচ্ছে।

👁️ দেখুন 🎦 ভিডিও। 👇



Next Story