অভিষেকের প্রতিশ্রুতির পাঁচ দিনের মাথায় শালতোড়ার পাথর শিল্প পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ, ১৭ টি কালো পাথর খনির ই-নিলামের বিজ্ঞপ্তি জারি।
শালতোড়ায় রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা জমিতে অবস্থিত ১৭ টি ব্ল্যাক স্টোন ব্লকগুলিকে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে ই-অকশনে তোলার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। সরকারি ই-অকশন পোর্টাল www.eauction.gov.in মারফত অনলাইনে আবেদন এবং নিলামে অংশগ্রহণ করা যাবে।

বাঁকুড়া২৪x৭ এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার ঠিক পাঁচ দিনের মাথায় শালতোড়ার পাথর শিল্পের হাল ফেরানোর প্রক্রিয়া কার্যত আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়ে গেল। শালতোড়ার ১৭ টি কালো পাথরের খনির ই - নিলামের জন্য জেলা ভুমি দপ্তর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ফলে ফের শালতোড়ার পাথর শিল্পে নব জোয়ার আসতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য। বিধানসভা ভোটের মুখে শালতোড়ার পাথর শিল্পে প্রাণ ফেরাতে বড় বার্তা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১০ ই জানুয়ারী শালতোড়ার রণসংকল্প সভা থেকে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী দু’মাসের মধ্যে পাথর খাদান ও বন্ধ হয়ে থাকা ক্রাশার চালু করে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করা হবে।
আর সেই ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। সরকারি জমিতে থাকা শালতোড়ায় ১৭টি কালো পাথরের খনির ই-নিলামের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। এর ফলে বন্ধ হয়ে থাকা খাদান দ্রুত চালু হওয়ার পথ খুলছে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। বর্তমানে শালতোড়া ও সংলগ্ন এলাকায় আর্ধেকের বেশী স্টোন ক্র্যাসার বন্ধ। গোটা চারেক খাদান চালু থাকলেও সিংহভাগ বন্ধ। তাই এই নিলামের মাধ্যমে বাকি খাদান চালু হলে ফের গতি পাবে স্টোন ক্রাশার শিল্প। স্থানীয় সূত্রের খবর, কাঁচামাল মিললে একের পর এক ইউনিটে ফের কাজ শুরু হবে, যার জেরে এলাকায় কাজের জোয়ার আসতে পারে। ভূমি দপ্তর সুত্রে জানা গেছে:
বর্তমানে শালতোড়ায় ৪টি ও মেজিয়ায় ১টি মিলিয়ে মোট ৫টি পাথর খাদান চালু রয়েছে এই বিধানসভা এলাকায়। প্রায় ২৫০টি স্টোন ক্রাশারের মধ্যে চালু রয়েছে ১২০টি। শালতোড়ায় ১৩৩ হেক্টর সরকারি জমিতে মোট ১৭টি খাদান রয়েছে। এই ১৭টি খাদান বা কালো পাথরের খনির নিলাম শুরু করে অতি শীঘ্র সেগুলিতে পাথর উত্তোলোনের কাজ চালু করার পথে এগোচ্ছে জেলা প্রশাসন। এর ফলে এই শিল্পের সাথে যুক্ত করে এলাকায় প্রায় ২৫ হাজার অতিরিক্ত কর্মসংস্থান সম্ভব বলে প্রশাসনিক হিসাব। এই ই-নিলাম ১১ই ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে। বাঁকুড়া জেলায় কালো পাথর (Black Stone) উত্তোলনের জন্য সম্ভাব্য লাইসেন্স ও মাইনিং লিজ প্রদানের উদ্দেশ্যে ই-নিলামের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
জেলা শাসক ও কালেক্টরের ভূমি দপ্তরের তরফে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা জমিতে অবস্থিত ব্ল্যাক স্টোন ব্লকগুলিকে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে ই-অকশনে তোলা হবে। সরকারি ই-অকশন পোর্টাল www.eauction.gov.in মারফত অনলাইনে আবেদন ও অংশগ্রহণ করতে হবে। আবেদনকারীদের অবশ্যই ডিজিটাল সিগনেচার সার্টিফিকেট (DSC) থাকতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
▪ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
▪ অনলাইন নথি জমা ও পেমেন্ট শুরু : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
▪ অনলাইন জমা শেষ : ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৪টা
▪ হার্ড কপি জমা শেষ : ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৫টা
▪ ডকুমেন্ট অনুমোদন : ৯–১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
▪ ই-নিলাম শুরু : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ১১টা
▪ ই-নিলাম শেষ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৫টা
▪ নিলামের শর্ত
প্রত্যেক ব্লকের জন্য নির্ধারিত রিজার্ভ প্রাইসের ওপর দর হাঁকাতে হবে। ন্যূনতম বিড ইনক্রিমেন্ট রাখা হয়েছে ₹১০,০০০। সর্বোচ্চ সিলিং হবে রিজার্ভ মূল্যের ৫০ শতাংশ। ই-নিলামে শেষ মুহূর্তে দর এলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সময় বাড়ানো হবে।
▪ জন্য প্রয়োজনীয় নথি
▪ আধার / ভোটার কার্ড
▪ প্যান কার্ড
▪ ট্রেড লাইসেন্স
▪ কোম্পানি বা ফার্ম রেজিস্ট্রেশন
▪ GST সার্টিফিকেট
▪ আয়কর রিটার্ন
▪ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট সার্টিফিকেট
▪ আর্নেস্ট মানি ডিপোজিট ও বিড সিকিউরিটি
▪ প্রশাসনের বার্তা
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অংশগ্রহণকারী দরদাতাদের নিলামের আগে সংশ্লিষ্ট ব্লক এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সমস্ত শর্তাবলি বিড ডকুমেন্ট ও সরকারি ই-অকশন পোর্টালে পাওয়া যাবে।
এই ই-নিলামের মাধ্যমে বাঁকুড়া জেলায় খনিজ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এদিকে, দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর ফের পুরানো ছন্দে ফিরতে চলেছে শালতোড়া। তাই, এসআইআর এর জন্য ভিন রাজ্যে কাজ করা পরিযায়ী শ্রমিক,যারা শালতোড়ায় নিজেদের ঘরে ফিরে এসেছেন,তাদের আর ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না।তারা সবাই শালতোড়ার পাথর শিল্পে যুক্ত হয়ে নিজ ভুমেই রুজি রুটির মুখ দেখবেন। এই আশাতে বুক বাঁধা যে শুরু হয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য। আর বিধানসভা ভোটের আগেই যদি পুরোদমে শালতোড়ার পাথর শিল্পের নতুন করে পথ চলা শুরু হয়ে যায়,সেক্ষেত্রে ভোটের লড়াইয়ে বিরোধী দের চেয়ে তৃণমূল বেশ কয়েক কদম এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন শালতোড়ার রাজনৈতিক বোদ্ধারা।




