পরীক্ষা দিয়ে ফিরেই সর্বনাশ!মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী অর্পণের ঘরে আগুন-বইপত্র ছাই,সব হারিয়ে পরিবারে হাহাকার,সাহায্যের আর্তি।
এদিন মাধ্যমিকের ইংরাজী পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরেই নিজেদের বাড়ির এই অগ্নিদগ্ধ অবস্থা দেখে ভেঙ্গে পড়ে অর্পণ। তার বই, খাতাও আগুনে পুড়ে দলা পাকিয়ে গেছে। তাই কিভাবে সে বই জোগাড় করে বাকি পরীক্ষা দেবে,তা বুঝে উঠতে পারছে না।

বাঁকুড়া২৪x৭প্রতিবেদন : এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়া জেলার ওন্দা থানা এলাকার হরিহরপুর গ্রামে। এদিন দুপুরে আচমকা বাড়িতে আগুন লেগে যায়। আগুন লাগার সময় ছোট ছেলেকে নিয়ে বাড়ির বাইরে ছিলেন বাড়ির গৃহকর্তী রীনা দেবী। রীনা দেবীর বড়ো ছেলে অর্পণ ধীবর এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। সে স্থানীয় সান্তোর অঞলের গড় কোটালপুর রবীন্দ্র বিদ্যানিকেতনের ছাত্র। মাধ্যমিকে তার পরীক্ষার সিট পড়েছিল ওন্দার কালিসেন হাইস্কুলে।ছেলে পরীক্ষা দিতে যাওয়ায় বাড়ির বাইরে ছিলেন তিনি। আচমকা বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা টের পান। ততক্ষণে আগুন অনেকখানি ছড়িয়ে যায়।আগুনের গ্রাসে পুড়ে ছাই হয়ে যায় বাড়ির আসবাবপত্র, জামা- কাপড়,টাকা, জরুরি কাগজপত্র,খাবার- দাবার এবং অর্পণের সব বইপত্রও।
গ্রামের মানুষ সাবমার্সিবেল পাম্প থেকে জল দিয়ে কোনক্রমে আগুন নেভান। এবং তা আসেপাশের বাড়িতে ছড়ানো ঠেকালেও অর্পণের বড়ির ক্ষয়- ক্ষতি ঠেকানো যায় নি।গ্রামবাসীদের প্রাথমিক অনুমান,শর্ট সার্কিটে বা পুজোর ধূপের আগুনে এই আঘটন ঘটে থাকতে পারে? এই অবস্থায় দিশেহারা অর্পণ ও তার পরিবার। এদিন মাধ্যমিকের ইংরাজী পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরেই নিজেদের বাড়ির এই অগ্নিদগ্ধ অবস্থা দেখে ভেঙ্গে পড়ে অর্পণ। তার বই, খাতাও আগুনে পুড়ে দলা পাকিয়ে গেছে। তাই কিভাবে সে বই জোগাড় করে বাকি পরীক্ষা দেবে এবং বাড়িতে খাবার দাবাও নেই,জামা কাপড়,বিছানা পত্রও পুড়ে ছাই। তাই এই অবস্থায় তাদের পরিবারের পাশে কেও এসে দাঁড়ায় তাহলে অর্পণ কিছুটা হলেও মাধ্যমিকের বাকি পরীক্ষাগুলিতে বসার জন্য প্রস্তুতির লড়াই শুরু করতে পারবে।
প্রসঙ্গত, অর্পণের পরিবারের আর্থিক অবস্থা সচ্ছ্বল নয় তার বাবা তরুণ বাবু গাড়ির চালক। তার ছোট ভাই অনুপম ক্লাস ওয়ানে পড়ে। আচমকা এই অগ্নিকান্ড তাই পুরো পরিবারকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল, তা বলাই বাহুল্য। এখন গ্রামের মানুষের দাবি জেলা বা ব্লক প্রশাসন এবং জন প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা কোন সহৃদয় ব্যক্তি যদি অর্পণের পাশে দাঁড়ায়,তাহলে এক রত্তি ছেলেটি অন্তত মাধ্যমিকের বাকি পরীক্ষা গুলি স্বস্তির সাথে দিতে পারে।
👁️🗨️দেখুন🎦ভিডিও 👇




