মধ্য রাতে শহরের গন্ধেশ্বরী নদীর চরে হোলিকা দহনের মধ্যদিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশের প্রার্থনা।
বাঁকুড়া২৪X৭প্রতিবেদন : অশুভ শক্তির বিনাশের কামনায় দোলের আগে মধ্যরাতে বাঁকুড়া শহরের সতীঘাট সংলগ্ন গন্ধেশ্বরী নদীর চরে পালিত হল হোলিকা,দহন। এই হোলিকা দহন ন্যাড়া পোড়া নামেও গ্রাম বাংলায় পরিচিত। এদিন, বাঁকুড়া শহরের হিন্দিভাষী মানুষজন এই হোলিকা দহনের আয়োজন করেন। পুরাণ মতে হিরণ্যকশিপুরের সন্তান প্রহ্লাদ বিষ্ণুর পরম ভক্ত। তাই প্রহ্লাদকে হত্যা করাতে নিজের বোন হোলিকাকে কাজে লাগান তিনি।হোলিকা ব্রহ্মার কাছ থেকে একটি শাল পেয়েছিলেন। এই শাল তাঁকে সবসময় রক্ষা করবে বলে বরও দেন ব্রহ্মা। তাই দাদার ইচ্ছে পূরণে হোলিকা প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনের মধ্যে বসার মতলব আঁটেন। তার ধারনা ছিল শাল থাকায় তাঁর কিছু হবে না আর ছোট্ট প্রহ্লাদ পুড়ে ছাই হয়ে মারা পড়বে।
কিন্তু প্রহ্লাদকে নিয়ে হোলিকা আগুনে প্রবেশ করলে উলটে তার গায়ের শালটি তার কাছ থেকে প্রহ্লাদের গায়ে গিয়ে পড়ে। ফলে প্রহ্লাদ প্রাণে বেঁচে যায়। আর ওই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যান হোলিকা।এরপর নরসিংহ রূপ ধরে খোদ বিষ্ণু এসে হিরণ্যকশিপুকে হত্যা করেন। এই হোলিকার মৃত্যু থেকেই শুরু হয় হোলিকা দহন প্রথা। ধর্মপ্রাণ মানুষজন তাদের মনের সব পাপ,অশুচি, লোভ, হিংসাকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে এবং অশুভ শক্তির বিনাশের কামনায় দোলের আগের দিন রাতে এই হোলিকা দহনের আয়োজন করে আসছেন যুগ,যুগ ধরে। এই প্রথা মেনে বাঁকুড়া শহরেও ঘটা করে পালিত হল হোলিকা দহন।
👁️দেখুন 🎦ভিডিও। 👇