বাংলায় আল- কায়েদার স্লিপার সেল গড়ার পর্দা ফাঁস,খাতড়া থেকে জঙ্গি যোগের অভিযোগে ধৃত যুবক।
খাতড়া মহকুমা আদালতে তোলার পর বিচারকের নির্দেশে তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে অন্ধ্রপ্রদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তার পরিবার। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বাঁকুড়া২৪x৭প্রতিবেদন : বাঁকুড়ার খাতড়া থেকে জঙ্গি যোগের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ধৃতের নাম মির আসিফ আলি (২০)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি মূলত তেলাঙ্গানার বাসিন্দা হলেও গত কয়েক মাস ধরে খাতড়া এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন। জানা গিয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের একটি বিশেষ দল স্থানীয় পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের এসটিএফ-এর সহযোগিতায় খাতড়া থানার খড়বন মোড় এলাকা থেকে তাকে আটক করে। দু’দিন আগে তার বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে বয়ানে অসংগতি ধরা পড়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস ও আল-কায়েদার যোগ থাকতে পারে।
প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, তিনি ওই সংগঠনগুলির মতাদর্শে প্রভাবিত হয়ে বাংলায় একটি ‘স্লিপার সেল’ গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন। তেলেঙ্গানায় ধৃত তিন জঙ্গির মোবাইল ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া ঘেঁটে আসিফের নাম উঠে আসে বলে দাবি তদন্তকারী সূত্রের।পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে অস্ত্র হাতে ছবি-সহ একাধিক সন্দেহজনক পোস্ট পাওয়া গিয়েছে। তার কাছ থেকে ল্যাপটপ-সহ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ও নথি উদ্ধার হয়েছে, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যুবকদের প্রভাবিত করে জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগের চেষ্টা চালাচ্ছিল সে। গ্রেফতারের পর শুক্রবার তাকে খাতড়া মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এরপরই তাকে অন্ধ্রপ্রদেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেশবিরোধী কার্যকলাপের একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে ধৃতের পরিবার। তাদের দাবি, আসিফ নির্দোষ এবং এই ধরনের কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার যুক্ত থাকার বিষয়টি তাদের অজানা। শুক্রবার তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের গ্রেফতারের খবরে ভেঙে পড়েছেন মা। আত্মীয়-পরিজনেরা এসে তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর আসিফ বিভিন্ন ব্যবসার চেষ্টা করলেও সফল হননি। পরে কাজের সন্ধানে দিল্লিতে আত্মীয়দের সঙ্গে যান। পরিবারের অভিযোগ, গভীর রাতে পুলিশ বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। তার বাবা ও জেঠু ইতিমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।
এবং তারা দ্রুত ছেলের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। যদিও বাঁকুড়া জেলা পুলিশের তরফে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। শুধু জানানো হয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের একটি দল এসেছিল এবং তাদের সহযোগিতাতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারীরা এখন ধৃতের সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছেন।
👁️🗨️দেখুন🎦ভিডিও। 👉