"টলিউডে আমার সময় রাজনীতিকে প্রশ্রয় দিই নি "-বাঁকুড়ায় বিস্ফোরক মহাগুরু মিঠুন।
টলিউডের অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টেনে মিঠুনের আক্ষেপ, “তখন রাজনীতিকে কোনও জায়গা দিইনি।” তাঁর অভিযোগ, এখন টলিউডে রাজনৈতিক প্রভাব ক্রমশ বেড়েছে। যদিও নির্দিষ্ট করে কারও নাম না নিলেও,তাঁর বক্তব্যের তীর যে শাসক শিবিরের দিকেই, তা রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন।
বাঁকুড়া২৪x৭প্রতিবেদন : “আমার সময় টালিগঞ্জে রাজনীতিকে প্রশয় দিইনি। এখন এসব হচ্ছে। তবে উচিত নয়। ওনাদের মর্জি, ওনারা করছেন।” গঙ্গাজলঘাটির অস্থায়ী হেলিপ্যাডে সাংবাদিক বৈঠকে সংক্ষিপ্ত এই মন্তব্যেই যেন বর্তমান টলিউড ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন “মহাগুরু” মিঠুন চক্রবর্তী।বড়জোড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিলেশ্বর সিনহার সমর্থনে রোড শো করতে এসে পুরনো দিনের টালিগঞ্জের স্মৃতিও টেনে আনেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ মোশন পিকচার লেবার ইউনিয়নের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থেকে কার্যত চেয়ারম্যান বা অভিভাবকের ভূমিকায় ছিলেন মিঠুন। সেই সময় টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ায় শ্রমিক সংগঠনের ভিত শক্ত করতে তাঁর ভূমিকার কথা এখনও ঘোরে কর্মীদের মুখে মুখে।
আশি ও নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্র শিল্পী, কলাকুশলী ও মজদূরদের মজুরি বৃদ্ধি, কাজের পরিবেশ উন্নয়ন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিলেন তিনি। প্রযোজকদের সঙ্গে দরকষাকষি থেকে শুরু করে কর্মীদের দাবি আদায়ে কঠোর অবস্থান—সব ক্ষেত্রেই তাঁর উপস্থিতি ছিল স্পষ্ট। কলকাতায় ‘হোপ ৮৬’-এর মতো উদ্যোগ, যেখানে চলচ্চিত্র কর্মীদের কল্যাণে তহবিল গঠনের চেষ্টা হয়েছিল, সেই সময়ের এক বড় দৃষ্টান্ত হিসেবেই ধরা হয়। সেই অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা টেনেই মিঠুনের আক্ষেপ, “তখন রাজনীতিকে কোনও জায়গা দিইনি।” তাঁর অভিযোগ, এখন টলিউডে রাজনৈতিক প্রভাব ক্রমশ বেড়েছে। যদিও নির্দিষ্ট করে কারও নাম না নিলেও, তাঁর বক্তব্যের তীর যে শাসক শিবিরের দিকেই, তা রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন।
রোড শো-র মঞ্চে অবশ্য রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট ছিল। “বাংলায় পরিবর্তন আসছে। বিজেপির সরকার হবে”—দাবি মিঠুনের। টলিউডে “রাজনৈতিক সিন্ডিকেট” প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন তিনি, যা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।বিজেপি এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করতে চাইছে। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, ভোটের আগে ইস্যু তৈরির চেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। তবে টালিগঞ্জের অতীত ও বর্তমানকে পাশাপাশি রেখে মিঠুনের এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যই আপাতত রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে তা বলাই বাহুল্য।
👁️🗨️দেখুন🎦ভিডিও। 👇