হাতির তাণ্ডবে উত্তাল জয়পুর, মৃত ১, আহত ৬ — ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করে জঙ্গলে ছাড়া হল হাতিটিকে।

বিষ্ণুপুর পাঞ্চেত বন বিভাগের ডিএফও অভিজিৎ কর বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। স্থানীয়দের ভিড় না করার অনুরোধ করা হয়েছে। হাতিটিকে জঙ্গলে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Update: 2026-03-05 02:29 GMT

বাঁকুড়া২৪x৭প্রতিবেদন : হাতির তাণ্ডবে উত্তাল জয়পুর, মৃত ১, আহত ৬ — ঘুমপাড়ানি গুলিতে কাবু করা হল হাতিটিকে। বাঁকুড়ার জয়পুরে ভোরের নীরবতা ভেঙে আচমকা হাতির তান্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। আতঙ্ক ছড়ায় জয়পুর থানার রাউখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের জামদিগরি রাজার বাগান এলাকায় এক দলছুট দাঁতাল হাতির হানায় রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গ্রাম। আচমকা গ্রামে ঢুকে পড়ে ক্ষিপ্ত হাতিটি। ঘুম ভাঙার আগেই প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন বাসিন্দারা।স্থানীয় সূত্রে খবর, একটি বাড়িতে বসে থাকা বাবা ও মেয়ের উপর হঠাৎই চড়াও হয় হাতিটি। শুঁড়ে পেঁচিয়ে আছাড় মারে। পাশাপাশি একাধিক বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে দাঁতালটি।

বেশ কয়েকটি বাড়ির দরজা ও দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠে থাকা গ্রামবাসীদের দিকেও তেড়ে যায় হাতি। একের পর এক হামলায় মোট ৬ জন গুরুতর জখম হন। একটি গরুর মৃত্যুর খবরও মিলেছে। আহতদের দ্রুত জয়পুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি নিয়ে যাওয়া হয়। গুরুতর আহতদের মধ্যে রাউৎখন্ড গ্রামের বাসিন্দা বিজয় কোলের (৫৫) ঘটনার খানিক পরে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বনদপ্তর ও জয়পুর থানার পুলিশ। তবে হাতিটিকে জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন বনকর্মীরা। অতিরিক্ত মানুষের ভিড় এবং হাতির গতিপথ ঘিরে ফেলার জেরে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে দাঁতালটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘক্ষণ হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে।

আহত গ্রামবাসী মিঠু কৈবর্ত জানান, “হাতিটা হঠাৎই বাড়ির সামনে চলে আসে। আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আক্রমণ করে। ”পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘুমপাড়ানি গুলি ছোড়া হয়। হাতিটিকে ঘুম পাড়িয়ে ক্রেনের সাহায্যে তাকে গভীর জঙ্গলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিষ্ণুপুর পাঞ্চেত বন বিভাগের ডিএফও অভিজিৎ কর বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। স্থানীয়দের ভিড় না করার অনুরোধ করা হয়েছে। হাতিটিকে জঙ্গলে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”এদিকে,পুরো এলাকায় এখনও চরম আতঙ্কের পরিবেশ। বহু পরিবার ঘরবন্দি। শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বনদপ্তর মাইকিং করে সতর্কবার্তা প্রচার করলেও গ্রামজুড়ে এখনও হাতির হানার আতঙ্ক কাটেনি।

👁️‍🗨️দেখুন🎦ভিডিও। 👇

Full View


Tags:    

Similar News