"আচার্য বিল" ইস্যুতে রাজ্য বনাম রাজ্যপাল সংঘাতে কি এবার ইতি পড়বে? বাঁকুড়ায় এসে কিসের ইঙ্গিত দিলেন রাজ্যপাল?জেনে নিন এই প্রতিবেদনে।

Update: 2023-04-28 13:47 GMT

বাঁকুড়া২৪X৭প্রতিবেদন :"রাজ্যপালকে আচার্য চাই না, মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য চাই"- এই দাবীতে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অধ্যাপকদের সংগঠন ওয়েবকুপা থেকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের আন্দোলন, গণ স্বাক্ষর অভিযান, রাজ্যপাল কে চিঠি এসবের জেরে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় ও মহা বিদ্যালয়গুলি সরগরম।মহানগরীতেও হোর্ডিং ব্যানারে ছড়াছড়ি। বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্যপালের সফরের দিনও এডমিনিস্ট্রেটিভ বিল্ডিং এ মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য করার দাবীতে পোস্টার নজরে পড়ে।কার্যত এই ইস্যুতে ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

 রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু কদিন আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন,তিনি রাজ্যপালকে আচার্য চান না,মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য চান।তার দাবি, "নৈতিক অর্থে আমাদের কাছে আচার্য মুখ্যমন্ত্রী।"- তাই আচার্য বিলে অবিলম্বে রাজ্যপাল সই করুন,না হলে ফেরত পাঠান। এভাবে বিল সই না করে আটকে রাখা সমীচীন নয় বলেও দাবি করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ফলে, মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য করার বিল সই ইস্যুতে কার্যত রাজ্য সরকার বনাম রাজ্যপাল সংঘাত এখন চরমে। এই অবস্থায় রাজ্যপাল কি আচার্য বিলে সই করবেন? এটাই এখন বড়ো প্রশ্ন। আর বাঁকুড়া সফরে এসে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এই বিল সই প্রসঙ্গে তার মতামত ব্যক্ত করলেন এদিন।

তিনি,বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান,এই বিল নিয়ে সঠিক সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।তবে,তিনি কি সিদ্ধান্ত নেবেন তা অবশ্য খোলসা করেন নি এদিন।রাজ্যপাল এই বিলে সই করবেন? না ফেরত পাঠাবেন? না যেমন আটকে আছে তেমন আটকেই থাকবে? তা অবশ্য রাজ্যপালের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট নয়। এদিকে,রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আগেই রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রাজ্যপাল হয় বিলে সই করুন,না হয় ফেরত পাঠান।পাশাপাশি,সম্প্রতি তেলেঙ্গানা রাজ্যের একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জামিয়েছে-

কোন বিল বিধানসভায় পাশ হয়ে গেলে রাজ্যপাল সেই বিল সংক্রান্ত ফাইল আটকে রাখতে পারবেন না। দুই সপ্তাহের বেশী সেই ফাইল আটকে রাখা যাবে না বলেও নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে হাতিয়ার করে এই রাজ্যও চাইছে শীঘ্র মুখ্যমন্ত্রীকে আচার্য পদে নিয়োগের বিলটিতে সই করুন রাজ্যপাল।অর্থাৎ,বিশ্ববিদ্যালয় গুলির ক্ষেত্রে রাজ্যপালের নিয়ন্ত্রণের বেষ্টনী ভেঙ্গে ফেলার পথে হাঁটতে চাইছে রাজ্য সরকার তা বলাই বাহুল্য। রাজ্য বিধানসভায় গত বছর জুন মাসে এই বিল পাশ হয়।তারপর থেকে রাজভবনের লালফিতের গেরোয় আটকে এই বিল বলে অভিযোগ রাজ্যের শাসক শিবিরের। 

এদিকে,রাজ্যের বিরোধী শিবির বিজেপির রাজনৈতিক বোদ্ধাদের অভিমত,রাজ্যপাল বিশ্ববিদ্যালয় গুলির ওপর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেবেন এমনটা আশা করা যাচ্ছে না।রাজ্যপাল আচার্য আছেন।থাকবেন।অন্যদিকে,রাজ্য ও রাজ্যপাল সংঘাতের আবহে এই আচার্য বিল ইস্যুতে রাজ্যপাল সিদ্ধান্ত কি নেবেন তার ওপরই নির্ভর করছে আচার্য বিলের ভবিষ্যত। এই প্রশ্নও উঠছে সংশ্লিষ্ট মহলে। এখন দেখার এই বিল নিয়ে রাজ্য বনাম রাজ্যপালের সংঘাত মেটে কিনা?

👁️‍🗨️দেখুন 🎦ভিডিও। 👇

Full View

বাঁকুড়া২৪X৭ এন্ড্রয়েড অ্যাপ ডাউনলোড করতে এই লেখার ওপর ক্লিক করুন,আর বাঁকুড়ার খবরে আপডেট থাকুন।

Tags:    

Similar News